Thursday, June 2, 2016

বিষয় : শিণ্পী-ব্যক্তিত্ব

প্রিয় পাঠক/ব্লগার,

বিষয় : শিণ্পী-ব্যক্তিত্ব
Manna Dey


শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা যেন অটুট থাকে

“শিল্পীর কোনও মৃত্যু নেই”,” তিনি আর নেই”, “কিংবদন্তী শিল্পী মান্না দে”। শ্রদ্ধার্ঘ হিসাবে এইরকম কযেকটি কথা লিখে একটি সহজ সরল গ্রাফিক্স্ শিল্পীর প্রয়াণের কয়েক ঘন্টার মধ্যে বাংলাব্লগের পক্ষ থেকে আমরা প্রকাশ করেছিলাম মূলতঃ ফেসবুকের পাতায়। সবেমাত্র জন্ম নেওয়া বাংলাব্লগের পক্ষ থেকে এটাই ছিলো তার প্রথম শ্রদ্ধার্ঘ।

মান্না দে আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। বেশ কিছুদিন হলো তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে এখানে আমাদের বিশেষ কিছুই বলার নেই। বাঙালী মাত্রই তাঁকে চেনেন জানেন। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতি কখনোই মনে করায় না যে তিনি আমাদের মধ্যে নেই। তিনি বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টির মধ্যেই। তবুও কিংবদন্তী শিল্পীকে স্মরণ করতে গিয়ে “শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা যেন অটুট থাকে!” এই কথাটা যেন আমরা ভুলে না যাই। আমরা তাঁকে প্রণাম জানাই।

ফটো ক্রেডিট- ফেসবুক

বিষয়ঃ শিল্প আলোচনা (২)

বিষয়ঃ শিল্প আলোচনা
প্রিয় পাঠক/ব্লগার,

বাই আয়োজিত দ্বিতীয় শিল্প আলোচনা সভায় ব্যাপক ভীড়

গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ কলকাতার চারুকলা ভবনের একতলায় অবস্থিত অবনীন্দ্র সভাগৃহে বেঙ্গল আর্ট আয়োজিত দ্বিতীয় শিল্প আলোচনা সভায় তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ব্যাপক ভীড় হয়। বাই-এর সদস্যরা ভাবতেই পারেন নি যে গতবারের তুলনায় এবারে এত ভীড় হবে। সাধারণতঃ এই সভাঘরে এই ধরণের আলোচনা সভায় ২৫-৩০ জনের বেশী লোক হয় না। সম্ভবতঃ আলোচনা সভার গুরুত্ব বুঝে তরুণ ও বয়ষ্ক উভয় প্রজন্মের স্রোতারা এবার উপস্থিত হয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এমন কি একজন বিদেশী মহিলাও উপস্থিত ছিলেন এই সভায়, মনে হয় তিনি বাংলাভাষা বোঝেন। দুটি পর্বে বিভক্ত আলোচনা সভায় অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে শেষ পর্যন্ত সকলেই উপস্থিত ছিলেন, এমন কি দ্বিতীয় পর্বেও অনেককেই সভাঘরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কোনোরকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই মাঝের বিরতিতে টোকেন হাতে নিয়ে কিউ-এ দাঁড়িয়ে চা এবং সিঙ্গাড়া নিয়েছেন স্রোতা-দর্শকদের সবাই। বাই-এর সদস্যদের মতে এটা একটা নজরকাড়া বিষয়। আলোচনা সভার সাফল্য বাই সদস্যদের যথেষ্ট অনুপ্রাণীত করেছে এবং তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।  বক্তাদের নজরকাড়া ভাষণ এবং সঞ্চালকের সুদক্ষ পরিচালনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে স্রোতা-দর্শকদের প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ থাকায় সভা খুবই প্রাণবন্ত ছিল। আমরা বাংলাব্লগের পক্ষ থেকে বাই-এর সদস্যদের তোলা কিছু ছবি এখানে উপস্থিত করছি। পরবর্তী রিপোর্টে বাংলাব্লগ প্রতিনিধির লেখায় সভার আলোচিত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে। বাই-এর সহযোগী বা এ্যাসোসিয়েট হিসাবে প্রচারের দায়িত্বে থাকা বাংলাব্লগ পরপর অনেকগুলি রিপোর্ট প্রকাশ করবে। আপনারা সঙ্গে থাকুন। ধন্যবাদ।
বাঁ দিক থেকে - সুনন্দ কুমার সান্যাল, পার্থ দাশগুপ্ত এবং তপন ভট্টাচার্য
অনুষ্ঠান শুরু হবার আগে
তিন জন বক্তা
দর্শক-শ্রোতারা
দর্শক-শ্রোতারা
দর্শক-শ্রোতারা
সুনন্দ ও বাই সম্পাদক নবকুমার
তপন ভট্টাচার্য
নবকুমার বাই-এর তরফে লেখা পাঠ করছেন
সুনন্দ এবং পার্থ বক্তব্য রাখছেন
দর্শক-শ্রোতা
সুনন্দ বক্তব্য রাখছেন
বাই সদস্য
বক্তারা
মাঝের বিরতিতে চা পান
মাঝের বিরতিতে শ্রোতাদের চা পান
মাঝের বিরতিতে শ্রোতাদের চা পান ও আলোচনা
বক্তারা মগ্ন আলোচনায়
মাঝের বিরতিতে শ্রোতাদের চা পানের জন্য কিউ-তে অপেক্ষা
গল্পগুজব ও চা সিঙ্গাড়া
হলের মধ্যে বাই-সদস্যরা
মাঝের বিরতিতে লম্বা কিউ
সুনন্দ ভাষণ দিচ্ছেন
শ্রোতারা অনূষ্ঠানে মগ্ন
পার্থ ও তপন, মাঝখানে একজন শ্রোতা
বক্তাদের মগ্নতা
বক্তাদের মগ্নতা
বক্তাদের মগ্নতা
শ্রোতাদের মগ্নতা
শ্রোতাদের মগ্নতা
মাঝের বিরতিতে
বাই সদস্যরা
শ্রোতারা
শ্রোতারা এবং বাই-সদস্য
শ্রোতারা এবং বাই-সদস্য
শ্রোতারা এবং বাই-সদস্য
শ্রোতারা এবং বাই-সদস্যরা
বক্তারা
বিদেশীনি শ্রোতা ও ভিডিও সঞ্চালক
হলে বাই-সদস্যরা
হলে বাই-সদস্যরা
দর্শক ও বাই সদস্যরা আলোচনায়

ফটোগ্রাফিঃ নবকুমার চক্রবর্তী, সুমিত চৌধুরী, সুদীপ রক্ষিত।

–বাংলাব্লগ টিম
Posted in শিল্প, সংবাদ | মন্তব্য দিন

বিষয়ঃ ধ্বংস ও মৃত্যু

প্রিয় পাঠক/ব্লগার,

ধ্বংস ও মৃত্যু

না মানিনা! মেনে নেওয়ার মতন নয়। এ কোনও নিছক দুর্ঘটনা নয়! এ বিজ্ঞানের ব্যর্থতা নয়! এ গুয়েরনিকা নয় নন্দীগ্রামও নয়! তবে তার থেকে কিছু কম নয়! এ ইচ্ছাকৃত সাজানো ঘটনা, অবিমৃশ্যকারীতা, চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতা, গাফিলতি। মানুষের প্রাণের কোনও দাম না দিতে চাওয়া উন্নয়ন প্রক্রীয়ার নিষ্ঠুরতা! ভয়ঙ্কর লোভ আর লালসার ফল যার কাছে মানুষের জীবনের কোনও অর্থ নেই! আমরা জানিই না যে কখন আমাদের ঘাড়ের উপর ভেঙ্গে পড়বে উন্নয়ন নামক সুবৃহৎ একটি ‘ঘণ্টা’র কোনো এক ইমারত! কোনও নাগরিক জানেন না যে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত্রে বাড়ী ফিরতে পারবেন কিনা—লাশকাটা ঘরে তাঁর স্থান হবে কিনা! আমরা স্তম্ভিত! আমরা বিচলিত ও ব্যথিত! এর সঙ্গে শুরু হয়েছে গা বাঁচানো নাটকীয় চাপান উতোরের ঘ্যানঘ্যানানি! ধুলো ঝাড়ার মতন করে হাত ঝেড়ে ফেলে পরস্পর দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে চাইছে লোভী ক্ষমতাপিপাসুরা! চিটেগুড়ের উপর উড়তে থাকা ভনভনানো মাছির মতন ক্ষমতার পদপ্রার্থী লোভীর দল, ঘটনার আবর্তে তাল ঠুকছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য। বিপন্ন মানুষের কান্না ঐ ক্ষমতাবাদীদের তাল ঠোকার কনটেন্ট!! অদ্ভুত আশ্চর্য এক আঁধার! সামাজিক জীব হিসাবে মূল্যবোধহীন নীতির কাছে আত্মসমর্পণ। নির্বিকার নির্লজ্জ প্রগতিশীলতা! টিভির পর্দায় পচনশীল বাগ্মীতা! ক্রিকেট সন্ধ্যায় মদিরা মুরগীতে মগ্ন উল্লাশপ্রিয় জনতা জনার্দন—একটি ব্ল্যাক ডে!! উন্নয়ন ইতিহাসের কালো দিন!!! মৃতের আত্মা যেন ঘুরপাক খায় কল্লোলিনীর মাথার উপর। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়? এই হত্যার দায় কে নেবে??!

আমরা বাংলাব্লগের পক্ষ থেকে এই অমানবিক ঘটনার প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাই। আমাদের দাবী কোনও রকম ছলাকলা না করে রাষ্ট্রকে এর চূড়ান্ত দায়িত্ব নিতে হবে! সমস্ত রকমের অপরাধ প্রবণতাকে নিশ্চিহ্ন করে অপরাধীদের চরমতম শাস্তির ব্যবস্থা করে নাগরিকদের সুরক্ষিত করতে হবে নচেৎ ভবিষ্যতের সমাজ একটি তমসাচ্ছন্ন নীতিহীন পূতিগন্ধময় গর্ভাধারে পরিণত হবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না তার জন্য!!! ধন্যবাদ।

–বাংলাব্লগ টিম

Posted in বাংলাব্লগ, সংবাদ, সমাজ | Tagged , , , , , , , , , , , , , , , , , , | মন্তব্য দিন | সম্পাদনা

বিষয়ঃ নির্বাচন ও কবিতা

প্রিয় পাঠক/ব্লগার,

ভাতৃঘাতি পারস্পরিক হানাহানি ছেড়ে বাঙালী চলে আসুক এই উন্নয়ন যজ্ঞে

 

অনেকদিন কিছু পোস্ট করা হয় নি। নানা কারণে ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে আমরা পার করে এলাম। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়টা কেটে গেছে নানা জিনিস পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে। ভার্চুয়াল জগতে নির্বাচন নিয়ে নানা মন্তব্য / মতামত, ভাইরাল হয়ে যাওয়া আমোদপ্রিয় রসিক বাঙালীর কার্টুন, সংবাদ, সমালোচনা ইত্যাদির ঝড় বয়ে গেছে! এখন সব শান্ত! নতুন কোনও ইস্যু নিয়ে পরবর্তী সময়ের জন্য অপেক্ষা। তবুও আমরা আতঙ্কিত হয়ে উঠি যখন সংবাদে শুনি যে কেউ আহত হয়েছেন, কেউ মারা গেছেন নির্বাচন উত্তর বা পুর্ব পরিস্থিতিতে। নির্বাচনে হার জিৎ থাকবেই। যাঁরা জিতলেন তাঁরা নতুন সরকার গড়বেন, অনেক দায় দায়িত্ব তাঁদের। যাঁরা হারলেন তাঁদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে সামনের দিনগুলোতে। পশ্চিমবাংলার উন্নয়নে সকলেরই সমান দায় দায়িত্ব- হাতে হাত মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে খাড়া করে তোলার কাজ আজ আমাদের সকলের। তাই এই ভাতৃঘাতি পারস্পরিক হানাহানি ছেড়ে বাঙালী চলে আসুক এই উন্নয়ন যজ্ঞে। আমরা নতুন করে শপথ নিই। শান্তি প্রতিষ্ঠা করি। সকলকে শুভেচ্ছা জানাই!

এই পোস্টে কবি কৌশিক গাঙ্গুলীর দু’টি কবিতা আমার প্রকাশ করলাম । ফেসবুকের মাধ্যমে কবি কৌশিক আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন অনেকদিন আগে। সময় এবং সুযোগমত আমরা প্রকাশ করলাম। ভালো লাগলে জানাবেন।

— বাংলাব্লগ টিম

কবিতা ——————————————————————————————————————

একটি খোলা চিঠি

আপনার সঙ্গে দেখা হলেই মাষ্টারমশাই,
দেখবেন আমার দুচোখে স্বপ্নের অসুখ ।
বুঝিনা কিভাবে কাটবে জীবন বেপরোয়া ,
এই বাউন্ডুলেপনা আগুন ধরায় না শুধু খ্যাপাটে ঝড় উদাসীন মানুষের মতন ।
তারপর মাষ্টারমশাই কোথায় রাখলেন সেই কাঁটার মুকুট ?
দেখুন আমার সঙ্গে ক্রুশকাঠ,
ছেঁড়া ট্রাউজারের পকেটে খোলামকুচি ।
পৃথিবীর অবশিষ্ট প্রতিটি সবুজ প্রান্তরে আমার তাবু খাটানো আর সারা আকাশজুড়েই রাজত্ব,
গান গেয়ে বেড়াই গলা খুলে কোনো ব্যাকারণ না মেনে প্রাণের তাগিদে ।
যাদের বুকের মধ্যে ঘরবাড়ি,
যাদের হাসির মধ্যে অজস্র মণিমুক্তো,
যারা হৃদয় ছোঁয়া মানুষ – এক পৃথিবী ভালোবাসা,
মাষ্টারমশাই আমরা তাদের শুধুই তাদের ।

কালবৈশাখী

সারা দুনিয়াজুড়ে বাড়ে দুর্নীতি আর সন্ত্রাস,
বিষন্ন ও নিরন্ন মানুষের বুকে নিষ্ঠুর পরিহাস!
বয়স মানেনা ধর্ষকদের ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে নেশার সহবাস ।
শিল্পায়নে বন্ধ হয় চাষাবাদ ধর্মের নামে বাড়ে মৌলবাদ ।
হিংস্রতার আগুনে পোড়ে বাড়ি অভাবেতে ফাঁকা ভাতের হাড়ি ।
অহংকার আর ক্ষমতার আস্ফালন দেখা যায় ,
যে বসে সিংহাসনে সেই রাবণ হয় – হুজুগের ফুর্তিতে মাতে জনগণ ,
নোংরা রাজনীতিতে বেপরোয়া দুঃশাসন ,
প্রতিবাদ মানে তো লাশ হতে চাওয়া – এইভাবেই বসবাস আসুক গরম হাওয়া ।
যদি হয় কেউ দুখী হোক তবু আসুক কালবৈশাখী ।

– কৌশিক গাঙ্গুলি



Posted in কবিতা, বিভাগবিহীন, সংবাদ, সমাজ | Tagged , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | মন্তব্য দিন

Tuesday, May 31, 2016

বিষয়ঃ শিল্প আলোচনা (৩)

প্রিয় পাঠক/ব্লগার,

বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বাই-এর ২য় শিল্প আলোচনা সভায় লিফলেট ও প্রতিবেদন

 

পাল্টানো সময়ের ইতিবৃত্তান্ত সামাজিক প্রক্রীয়ায় উদ্গত মিথস্ক্রীয়ায় আক্রান্ত গোঁজামিল দেওয়া সমকালীন শিল্প-ইতিহাস ও তার চর্বিতচর্বণ ভাবনার বোঝাকে চ্যালেঞ্জ!

বাই-এর ২য় শিল্প আলোচনা সভায় এই লিফলেট-টা স্রোতা-দর্শকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। গতবারের আলোচনা সভার শুরুতে এই লেখাটা পাঠ করা হয়েছিল। পাঠ করেছিলেন অনুষ্ঠানের ঘোষক এবং সঞ্চালক পরাগ রায় (বাই-সদস্য)। লেখাটা সামান্য সংশোধন করে এবারে লিফলেট আকারে বিতরণ করা হয়। সাধারণভাবে কোনও আর্ট গ্রুপের একটা ইস্তাহার থাকে, যেহেতু জন্মের সাথে সাথে বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ কোনো ইস্তাহার বা ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করে নি তাই এইরকম একটা ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে তার অভিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে গোটা শিল্প-পরিমন্ডলের সামনে হাজির করতে চায় সে। আজকের দিনে ইস্তাহার প্রকাশ করাটা একটা বিতর্কিত বিষয় বলে এবং এর কোনও প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সে বিষয়ে বাই-সদস্যরা এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেন নি তাই ইস্তাহারের পরিবর্তে এই ঘোষণাপত্রটা প্রকাশ করা হয়েছে। বাই-এর সেক্রেটারী নবকুমার চক্রবর্তী কর্তৃক বাই-এর পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন পাঠের সময় এই কথাটা উল্লিখিত হয়েছে। নিচে ঘোষণাপত্র এবং ঐ প্রতিবেদনটা আমরা উপস্থিত করলাম। ধন্যবাদ!

–বাংলাব্লগ টিম

প্রিয় বন্ধুরা,
আজকের এই হালকা শীতের সন্ধ্যায় অবনীন্দ্র সভাগৃহে আয়োজিত নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান শুরুর প্রাকমুহূর্তে বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ-এর তরফ থেকে আমরা দু-চারটে কথা বলতে চাই। বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ একটি নবগঠিত শিল্পী-দল। মধ্য পঞ্চাশে দাঁড়িয়ে অর্নির্দিষ্ট, তমসাচ্ছন্ন, উদভ্রান্ত, উন্মার্গগামী, রুচিহীন একটা বিকারগ্রস্ত সংলাপ ও সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রমণ–একাকিত্বে বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত হতে হতে সেল-ফোনীয় তৎপরতায় গোলপার্কের অদূরে বিল্লাদার চায়ের দোকানে দীর্ঘ তিনবছরের আড্ডায় সবাইকে ডেকে এনে যুক্তি তক্কো গপ্পো চা সিগারেটের তুফানে মগ্ন হতে হতে হঠাৎ আকাঙ্খা জেগে ওঠে নিজেদের জন্য কিছু একটা করার। ছবি আঁকা তো চলছিল–নিজের নিজের স্টুডিওর দরজা বন্ধ করে। কিন্তু সে যে বড় একা একা–কে কি করি, কে কি ভাবি–কিছুই জানি না, বুঝি না! বোঝা দরকার জানা দরকার। আমরা বুঝতে চাইছিলাম। তাই জড়ো হওয়া। দল থাকলে দলাদলি থাকে, দলবদল থাকে, আমরা দলাদলিতে নেই কোলাকুলিতেও নেই! সহজ স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দ মনোভাব নিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে বুঝতে চাইছি এই পাল্টানো সময়ের ইতিবৃত্তান্ত সামাজিক প্রক্রীয়ায় উদ্গত মিথস্ক্রীয়ায় আক্রান্ত গোঁজামিল দেওয়া সমকালীন শিল্প-ইতিহাস ও তার চর্বিতচর্বণ ভাবনার বোঝা বহন করতে করতে ক্লান্ত অবসন্ন চিন্তার জগতে নবতর শিল্পভাষা অনুসন্ধানে দরকার নতুন রক্ত সঞ্চালনের–তরুণতর মনস্কতার যোগ্যতমদের দ্বারা পোস্টমর্টেম ও উৎখননকৃত সময়, ইতিহাস ও শিল্পের হাত ধরাধরি করে পথ চলার পাঁচালী। তাই তো প্রদর্শনী, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ব্লগ, ওয়েবসাইট, ম্যাগাজিন, বুলেটিন–যুক্তি তক্কো গপ্পো, বিতর্ক সভার ভাবনা। প্রস্তুতি চলছে। এই অনুষ্ঠানই তার দ্বিতীয় প্রয়াস। লোকবল কম, অর্থবল কম–তবুও প্রাত্যহিকতার ঠ্যালা সামলাতে সামলাতে, সমগ্র শিল্পকলা পরিমণ্ডলের অন্তর্গত কূটকচালী, রাজনীতি, পেশাদারীত্বের রেশারেশি, প্রতিযোগীতা–এ সবে বিব্রত বোধ করি, অথবা এসব সহ্য করতে করতেই নিজেরাই স্ব-উদ্যোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হই। আর সে জন্যই আর্ট ইনিশিয়েটিভ। বেঙ্গল তার স্থানিক পরিচিতি। বাংলা তার ঠিকানা। আমাদের দরজা জানলা খোলাই আছে–লোকালেও আছি গ্লোবালেও আছি–হয়তো গ্লোকাল! আমরা হাত বাড়িয়ে আছি–হাত বাড়ালেই বন্ধুত্বতা! প্রশ্ন থাকলে উত্তর আছে উত্তর থাকলে প্রশ্ন আছে। আপনারা স্বাগত!
বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ-এর সদস্যরা
১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ কলকাতা

বাই-এর ২য় শিল্প আলোচনা সভায় বিতরিত লিফলেট
বাই-এর ২য় শিল্প আলোচনা সভায় বিতরিত লিফলেট


BAI Members
দলের পক্ষ থেকে বাই-এর সেক্রেটারী নবকুমার চক্রবর্তীর একটি প্রতিবেদন পাঠ।
ডানদিকে অপর একজন বাই-সদস্য সুমিত চৌধুরী ফটো তোলায় ব্যস্ত।

দলের পক্ষ থেকে বাই-এর সেক্রেটারী নবকুমার চক্রবর্তীর একটি প্রতিবেদন পাঠ

প্রিয় বন্ধুরা,
উৎস ছিল একটি চায়ের দোকান। প্রতি শনিবারের সান্ধ্যকালীন আড্ডার মৌতাত ও মাতামাতি, গুলতানী, চুলোচুলি, বকবকানী, প্রস্তাব, আবার প্রস্তাব, আলোচনা—এসব পার করতে করতে চার চারটি মজলীশ পেরিয়ে ২০১৪-র ১৫ আগস্টের পঞ্চম মজলীশের এক বৈঠকে বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ অথবা ‘বাই’-এর জন্ম হয়। আট দশজন উৎসুক আড্ডাবাদী শিল্পীর প্রারম্ভিক প্রচেষ্টায় নবগঠিত বাই শুরু করে তার পথচলা। আড্ডার মধ্য দিয়ে তার জন্ম বলে সেই ধারায় আজও তার অস্তিত্ব টিঁকে আছে। সে এখন অনেকটা সংগঠিত। আটজন পূর্ণসদস্য ও কয়েকজন শুভাকাঙ্খীর অভিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্যের প্রতি মর্যাদা রেখে সে সারা ভারতের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে চায়। বুঝতে চায় সামগ্রিকভাবে বহুমাত্রিক শিল্পকলা পরিমন্ডলের সমকালীনতা, ধরাশায়ী আর্টবাজার ব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাকে, একই সঙ্গে চিনতে চায় বর্তমানের পরীক্ষা নিরীক্ষা নির্ভর নবরূপে রচিত শিল্পকলার আভ্যন্তরীণ কাঠামোটিকে যার মূল সুরটুকুকে মিলিয়ে নিতে চায় নিজের সঙ্গে। বাই জন্মের সাথে সাথে তার কোনও ইস্তাহার প্রকাশ করেনি ঠিকই তবে একটি প্রচারপত্রে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যর প্রাথমিক আভাস দেওয়া আছে। সেই প্রচারপত্রটি আজ আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হল। আপনারা পড়বেন, ভাববেন, প্রশ্ন রাখবেন, নানারকম প্রস্তাব দেবেন–ভবিষ্যতে এটাই আমাদের আশা। আমরা হাত বাড়িয়েই আছি। আসুন সংলাপ বিতর্ক যুক্তি তক্কো গপ্পোর আবহ নির্মাণ করে নতুন যুগের নতুন শিল্পভাষার অনুসন্ধানে আমরা ব্রতী হই। আপনাদেরকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই। ধন্যবাদ।
–বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা
————————————————————————————————

*বাংলাব্লগের তরফে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছেন আমপাব্লিক ব্লগারু।

Posted in আলোচনা, শিল্প, সংবাদ | মন্তব্য দিন

বিষয়ঃ প্রদর্শনী

প্রিয় পাঠক/ব্লগার,

নবকুমার চক্রবর্তীর দিল্লীর ললিতকলা অ্যাকাডেমীতে কালোসাদা ছবির প্রদর্শনী

বাই সেক্রেটারী নবকুমার চক্রবর্তীর একটি কালোসাদা ছবি নিয়ে নয়া দিল্লীর ললিতকলা একাডেমীতে আজ থেকে একটি প্রদর্শনী শুরু হতে চলেছে । ৩৫ নম্বর ফিরোজ শা রোডে অবস্থিত রবীন্দ্রভবনের  তিনতলায় গ্যালারী-৮ এ এই প্রদর্শনী চলবে এই মাসের ১০ তারিখ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। গতবছর এই শহরের ত্রিবেণী কলা কেন্দ্রে নবকুমারের প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, এবারে তাঁর দ্বিতীয় একক। গত বছরের ঐ প্রদর্শনী শিল্পী ও শিল্পপ্রেমীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় হয়েছিল। অনেক কাজের মধ্যে থেকে একটি কাজ বিক্রিও হয়েছিল। এতে নবকুমার উৎসাহ নিয়ে স্টুডিওতে মগ্ন হয় আরও বেশী, এক বছর ধরে কালিকলম নিয়ে ফ্যাব্রিয়ানো নামে কাগজে ছোটো বড়ো মিলিয়ে প্রচুর ছবি এঁকে ফেলে কেননা ওর কাছে কালিকলম হল খুবই প্রিয় মাধ্যম। কিউরেটার কল্লোল রায়ের ক্যাটালগ রাইটিং এই প্রদর্শনীতে বাড়তি সংযোজন। দিল্লীবাসী অপর একজন অগ্রজ শিল্পীবন্ধু সৌমিত্রদা নবকুমারকে খুব সাহায্য করছেন প্রদর্শনীকে সফল করে তুলতে। বাংলাব্লগ এই প্রদর্শনীর সামগ্রিক সাফল্য কামনা করে দর্শকদের স্বাগত জানাচ্ছে প্রদর্শনীতে উপস্থিত হবার জন্য। ধন্যবাদ!

আমন্ত্রণ প্ত্র
আমন্ত্রণ প্ত্র

আরও কিছু প্রয়োজনীয় তথ্যর জন্য নীচের লিঙ্ক-এ ক্লিক করুন।
ব্লগ- বাংলাব্লগারু   /   বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ

–বাংলাব্লগারু
Posted in আলোচনা, চিত্রকলা, শিল্প, সংবাদ | মন্তব্য দিন | সম্পাদনা

বিষয়ঃ ভ্রমণ


প্রিয় পাঠক/ব্লগার,

শিল্পী ভাস্কর রামকিংকরের বিখ্যাত ভাস্কর্য "ধান ঝাড়াই"
শিল্পী ভাস্কর রামকিংকরের বিখ্যাত ভাস্কর্য “ধান ঝাড়াই”


আধুনিক বাঙালীর তীর্থক্ষেত্র শান্তিনিকেতন
 

ভ্রমণ পিপাসু বাঙালীর কাছে শান্তিনিকেতন হল অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পট। কিন্ত শিক্ষিত আধুনিক বাঙালীর কাছে শান্তিনিকেতন হল তীর্থক্ষেত্র। প্রবীণ মানুষদের কাছে যেমন বেনারস বা কাশীর যে গুরুত্ব তেমন গুরুত্ব আছে রবীন্দ্রনাথের মতন মনীষীর অপার কীর্তির উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত বেশ কয়েকটি প্রজন্মের বাঙালীর কাছে এ কথা বোধহয় আমরা আজ আর কেউই অস্বীকার করতে পারব না। সুতরাং সেই টানেই বারেবারেই ছুটে যাওয়া ওখানে। অনেকবারই যাওয়া হয়েছে, গত মাসেও একবার গিয়েছি। যখনই গিয়েছি কোনও না কোনো কাজ নিয়ে গিয়েছি। ঘুরেছি ফিরেছি, প্রদর্শনী করেছি, ছবি তুলেছি। কোনও উইক এন্ড কাটানো নয়, যাওয়ার কথা হলে মনটা নেচে উঠেছে নিছক এক মানসিক তৃপ্তির জন্য। সবসময় মনে হতো শান্তিনিকেতন কখনও পুরোনো হয় না আর আজকের দিনে আমাদের আছেটাই বা কি? রবি ঠাকুরকে বাদ দিলে তো বাঙালীর কোনও ভবিষ্যৎ নেই! অন্ততঃ এখনও পর্যন্ত সেইরকম কোনও বাঙালীর জন্ম হয় নি যিনি আমাদের সমস্ত ধ্যানধারণাকে পাল্টে দিতে পারেন! অসাধারণ এক প্রাজ্ঞতা নিয়ে তিনি যে পরিবেশ পরিমণ্ডলটা গড়ে তুলেছিলেন তার ছোঁয়া পেয়ে তাঁর মৃত্যুর ৬০-৭০ বছর পর জন্ম নেওয়া এখনকার প্রজন্মের এক বছর কুড়ির ছেলের মনও যে নাড়া খেয়ে যায়, সেটা ভাবলে বোঝা যায় যে তাঁর চিন্তাশক্তির ক্ষমতা কি অসীম ছিল যে আজও তা সমানভাবে সক্রিয়! দূর থেকে দেখা নয়, শুধু পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে নয় রবীন্দ্রনাথকে জানতে হলে আজকের প্রজন্মের কোনও নবাগতকে তাঁর কীর্তির সান্নিধ্যে এনে দেওয়া উচিত এই কথা ভেবেই এই পারিবারিক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে হাজির হওয়া শান্তিনিকেতনে। পাঁচদিনের ভ্রমণে কলাভবন, সঙ্গীতভবন, মিউজিয়াম, নন্দন আর্টগ্যালারী, প্রতীচী ট্রাস্ট, সোনাঝুরি, হাট, খোয়াই, কোপাই, প্রান্তিক স্টেশান ও কংকালীতলা অবধি যাতায়াত সম্ভব হয়েছে, আরও অনেক কিছু বাকী রইল ভবিষ্যতের জন্য। এই পাঁচদিনের ভ্রমণে অনেক ছবি তোলা হয়েছে, তার থেকে কিছু বাছাই করে এখানে দেওয়া হল।

পাঁচদিনের পথ পরিক্রমা

পাঁচ দিনের জন্য গেস্ট হাউসে ঘাঁটি গেড়ে থেকে নিজেদের ইচ্ছেমতন খাওয়া ঘুম বা অবসর উপভোগ করতে করতে আমরা বেরিয়ে পড়েছি ঘুরতে। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রচুর টোটো, তাতে চড়ে টো টো করে ঘুরেছি, চায়ের দোকানে বসে আড্ডা মেরেছি, আমাদের মতন অনেক ট্যুরিস্টদের সঙ্গে গল্প গুজব হয়েছে, তার মধ্যে এমন লোকেরও সন্ধান পাওয়া গেছে যিনি বাউল গান নিয়ে মেতে থাকেন। বাউলদের বিভিন্ন আখড়ায় সুযোগ পেলেই তিনি হাজির হন বাউল গান শোনার জন্য। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে বেশ মজা পাওয়া যায়—বীরভূম অঞ্চলের কথ্য বাংলার অদ্ভুত টানে কথা শুনতে ভাল লাগে, মাটির গন্ধ যেন তাতে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় যে অভাব অভিযোগ আছে কিন্তু বিশ্বভারতী সহ রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁদের মনে অসীম শ্রদ্ধা আছে। শান্তিনিকেতন যে কলুষিত হচ্ছে না তা নয় –- সে তো কলকাতায় বসে খবরের কাগজেই আমরা পড়ি, তবুও একটা চেষ্টা আছে শান্তিনিকেতনকে তার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেবার। রাষ্ট্রের চোখে সে তো নয়নের মণি, তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নজর এড়ায় না।

আমরা বীরভূম গেস্ট হাউসে ছিলাম, গেস্ট হাউসটা সুন্দর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, গেস্ট হাউসের মালিক দেবুদা থেকে হাউসের কর্মচারীদের ব্যবহার খুবই সচ্ছন্দ, একটা হোমলি অ্যাটমোস্ফিয়ার আছে। ঠিক যেমন ট্যুরিস্টদের সঙ্গে হোটেল, দোকানদার বা রাস্তাঘাটের মানুষ, টোটো থেকে রিকশা চালকদের ব্যবহার বেশ নম্র-ভদ্র। ব্যতিক্রম নেই সেকথা বলব না তবে সেটা বাড়াবাড়ি রকমের নয়।

ভোরের শান্তিনিকেতন অসাধারণ, মনোমুগ্ধকর! বড়বড় বৃক্ষরাজিতে ভরা শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে দারুণ মজা লাগে। গেস্ট হাউসের উল্টোদিকের একটা চায়ের দোকানে বসে চা জলখাবার খেতে খেতে আমরা সকালের শান্তিনিকেতন উপভোগ করতাম! আর খালপাড়ের বউদির হোটেলে শস্তার সুস্বাদু মিল ছিল আমাদের রোজকার দুপুরের আহার। এই পূর্বাশা হোটেলের খুব নাম, দূর দূরান্ত থেকে লোকে খেতে আসে। এই খালপাড়ের কাছেই সোনাঝুরি আর সেই বিখ্যাত খোয়াই—যার পাড়ে অদ্ভুত সব ফর্ম অথবা ন্যাচারাল আর্কিটেকচার দেখে ছবি তোলায় নেশা ধরে যায়। এই খোয়াই-এর পাড়ে একটা হাট বসে প্রতি শনিবার, দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি এই হাটে জমজমাট ভীড় হয়, কেনাবেচা চলে নানারকম ক্রাফট, জামাকাপড় থেকে কাঠের জিনিস, মণিহারী জিনিস, বাউলদের মনমাতানো গান মাতিয়ে রাখে সারাক্ষণ। শহর থেকে আসা বয়স্ক মানুষ ও এখনকার প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের দেখেছি অবাক হয়ে বাউলের গান শুনতে, চোখে মুখে ফুটে ওঠা আনন্দ দেখে মনেহয় যেন শিকড়ের খোঁজে এখানে আসা। স্রোতারা গান শুনছেন, রেকর্ড করছেন, ভিডিও তুলছেন আবার প্রচুর ডোনেশান দিচ্ছেন বাউলদের—এটাই দেখবার মত বিষয় যে আমাদের ট্রাডিশানের ব্যাপারে সাধারণ শহুরে মানুষদের মধ্যে একটা বিরাট সচেতনতা তৈরী হয়েছে।

সোনাঝুরির কাছেই আছে প্রয়াত শিক্ষক ও শিল্পী বাঁধন দাসের বাড়ী (যেখানে বাঁধনদাও একটা হাট চালু করেছিলেন), স্বাদ এবং বসুন্ধরা আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট সেন্টার। স্বাদ (এস এস ভি এ ডি বা শান্তিনিকেতন সোসাইটি অফ ভিস্যুয়াল আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন) – যে প্রতিষ্ঠানকে বিশিষ্ট শিল্পী যোগেন চৌধুরীর নেতৃত্বে শান্তিনিকেতনে বসবাসকারী শিল্পী এবং কলাভবনের অধ্যাপকরা গড়ে তুলেছেন একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসাবে। দেশ বিদেশ থেকে আসা নানান শিল্পী এখানে ওয়ার্কশপ, প্রদর্শনী করে থাকেন। এই প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে গুণীজনদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। ভবিষ্যতের শিল্পীদের পক্ষে এই শিল্প-কেন্দ্র যে একটা বড়সড় ভূমিকা নেবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

একদিন পরিচ্ছন্ন প্রান্তিক স্টেশান পেরিয়ে আমরা কঙ্কালীতলায় গেলাম। কঙ্কালীতলা বাহান্ন পীঠেরএক পীঠ। মন্দির দর্শন সেরে আশপাশ ঘুরে কোপাই নদী দেখলাম। সংকীর্ণ কোপাই-এর পাড় পাথর দিয়ে বাঁধানো রয়েছে দেখলাম। এখান থেকে ফেরার পথে বিশ্ববাংলা-র সেন্টার দেখলাম। সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সেন্টার-টা। তবে আমরা যখন গিয়েছি তখন দোকানপাট খোলে নি তখনো। ফলে কেনাকাটা কিছু হয় নি, বরং সোনাঝুরির হাট থেকে অনেক কিছু কেনা হয়েছে। পরিবারের তরফ থেকে এই কেনাকাটায় মূল উদ্যোগ ছিল আমার স্ত্রী ছন্দার, সঙ্গে ছিল আমার পুত্র নির্মাল্য, ওদের দু’জনের এই ভ্রমণপর্ব ভীষণ ভালো লেগেছে জেনে আমার একটা সোয়াস্তি ছিল। কলাভবন চত্বরে সংরক্ষিত প্রবাদপ্রতিম শিল্পী-ভাস্কর রামকিংকরের গড়া ভাস্কর্যগুলো ঘুরেফিরে দেখতে হয়েছে, দেখতে হয়েছে আর এক প্রবাদপ্রতিম শিল্পী বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের গড়া বিশাল মিউরাল (কলাভবন ক্যান্টিন-এর দেয়াল), ছাত্রাবাসের কাজগুলো, সোমনাথ হোড় ও মানিদা’র করা মিউরাল এবং আরও অনেকের করা লোহা বা স্টীলে তৈরী স্কাল্পচার – এসব যত দেখেছি ততই মন আবেগঘন হয়ে উঠেছে। এর আগেও অনেকবার দেখেছি কিন্তু ফিরে ফিরে দেখার মধ্যে যে অন্য ভালো লাগা আছে সেকথা অনুভূতিতে ধরা দিল। আমার উদ্দেশ্য ছিল আমার ছেলেকে এইসব অসাধারণ সৃষ্টিগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার, ওর ভালোলাগা দেখে বুঝলাম আমার কাজ সার্থক হয়েছে। আরও অনেককিছু দেখার ইচ্ছা ছিল আমাদের কিন্তু পাঁচদিনের পর্ব শেষে একটা নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত মন নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসতে হল। বাসনা রইল অদূর ভবিষ্যতে আবার শান্তিনিকেতনে যাবার।

* একটা কথা জানিয়ে রাখি যে, যদিও এটা নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক তবুও না বলে পারছি না যে শান্তিনিকেতনের কোথাও কোনও কাক আমরা দেখতে পাইনি। এই অদ্ভুত ঘটনাটা আমরা লক্ষ্য করেছি। জানিনা এর কি কারণ, তবে জানতে হবে।

বিগত দিনের পরিক্রমা

গতমাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমি আর আমার বন্ধু নবকুমার দু’দিনের জন্য শান্তিনিকেতনে হাজির হয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল স্বাদ এবং নন্দন আর্ট গ্যালারী ভিজিট করা আর কিছু দরকারী কাজকর্ম সারা। এর সঙ্গে ছিল নন্দন আর্ট গ্যালারীতে আমাদের এক বন্ধুর স্ত্রীর চিত্র প্রদর্শনী দেখা। সেইমত গণদেবতা এক্সপ্রেস ধরে সকাল সকাল শান্তিনিকেতনে হাজির হয়ে দরকারী কাজগুলো মিটিয়ে নিলাম। প্রথমে স্বাদ-এ উপস্থিত হয়ে স্বাদ-এর পরিচালক শ্রীমতি জয়লক্ষ্মী সিংহ রায়-এর সঙ্গে দেখা করলাম, তিনি খুব আতিথেয়তা করলেন, অনেক কথাবার্তা হল তারপর স্বাদ আয়োজিত একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী দেখলাম, খুব ভালো ভালো কাজ চোখে পড়ল। নীচের বেসমেন্টের ওয়ার্কশপে কয়েকজন উঠিত শিল্পী কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হল অনেক কথাবার্তা হল। ২০১৩-তে এখানে আমরা প্রদর্শনী করেছিলাম। দেখলাম স্বাদ-এর পাশে একটা গোটা বাড়ীকে অত্যাধুনিক চেহারার গ্রাফিক্স স্টুডিওতে পরিণত করেছেন স্বাদ-এর পরিচালক বর্গ। এরপর হোটেল পূর্বাশায় দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়ি সোনাঝুরি হাট এবং নন্দন আর্ট গ্যালারীর উদ্দেশ্যে। সোনাঝুরি হাট দেখতে গিয়ে খোয়াই-এর পাড় দেখার জন্য খাদের মধ্যে নেমে পড়ি আমি আর নব। ঘুরতে ঘুরতে দেখতে থাকি, লোভ সামলাতে পারিনি, মোবাইল ক্যামেরাতে একের পর এক ছবি তুলতে থাকি। সে কি অসাধারণ বিচিত্র নৈসর্গিক স্থাপত্য, যেমন তার ভাঙন, তেমনি তার মোচড়, কার্ভেচার, মাটির অদ্ভুত সব ফর্ম। তার মধ্যে মধ্যে রোদ্দুরের খেলা, গাছপালা, পাখির কলরব। নব তো প্রকৃতি-পাগল, সঙ্গের ক্যামেরা ফোকাস করে একের পর এক ছবি তুলে গেছে। আমার উদ্দেশ্য ছিল একটা বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাউন্ড লেভেল থেকে ছবি নেওয়া, সেটা করতে করতে খোয়াই-এর দেয়ালেরও ছবি আর ভিডিও তুলতে থাকি। এইসব করতে করতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে, আমরা তাড়াতাড়ি হাটে এসে কিছু খুঁটিনাটি জিনিস বিশেষ করে গ্রামীণ ক্রাফট আইটেমগুলো দেখে নিয়ে, খানিকটা সময় বাউলদের গান শুনে নিয়ে কলাভবনের দিকে হাঁটা দিই। ওখানে নন্দন আর্ট গ্যালারীতে শুক্তি রায়ের শিল্পকলা প্রদর্শনী চলছিল। শুক্তির হাসব্যান্ড চয়নও ওখানে ছিল। দেখা হল দুজনের সঙ্গেই। আমরা প্রদর্শনী দেখলাম। অনেক আড্ডা হল। নব আর আমি প্রচুর ছবি তুললাম, ভিডিও তুললাম। এরপর আমার ইচ্ছা ছিল সারাদিনের ক্লান্তিকর হাঁটাহাঁটির পর একটু রসেবসে থাকা, কিন্তু বেশী টাকাপয়সা সঙ্গে না থাকায় ঐ আশা পরিত্যক্ত হয়। শুক্তি আর চয়ন গেস্ট হাউসে ফিরে গেল আমরাও আমাদের বীরভূম গেস্ট হাউসে ফিরে আসি, উল্টো দিকের চায়ের দোকানে বসে চা তেলেভাজা খেয়ে গল্পগুজব করতে করতে সন্ধ্যেটা কাটিয়ে দিয়ে রাত ন’টার সময় বৌদির হোটেলে রাতের খাওয়া সেরে নিয়ে আমরা হাঁটতে হাঁটতে প্রান্তিক স্টেশানের দিকে কিছুদূর গেলাম। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে হাঁটতে ভালই লাগছিল। চারদিকে নিশুতি রাত আর মাথার উপর গোলাকার চাঁদ, অপূর্ব সে দৃশ্য! মনে রাখার মতন।

পরদিন ছিল রোববার। সাত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে চা জলখাবার খেয়ে নিয়ে আমরা সোজা চলে যাই খালপাড়ের কাছে নেচার ইন্টারপ্রিটেশান সেন্টার-এর কাছে, ওখান দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করতে করতে আমরা পৌঁছে যাই লালবাঁধে। ২০১৩-তে প্রথমবার এখানে ঘুরে এসেছিলাম। ভীষণ ভালো লেগেছিল। বিশাল একটা জলাশয়, তাতে একদিকে ধোপারা কাপড় কাচছেন আর একদিকে পাখ পাখালি টল টলে   জল, ঝলমলে রোদ্দুর! আশপাশে কাঁকর নুড়ি মেশানো লাল মাটির জমি, পায়ে হাঁটা পথ। মাঝে মাঝে লম্বা লম্বা ঘাসের গোছা, দেখলেই বোঝা যায় এই রাঢ় বাংলার দৃশ্য নন্দলান, রামকিঙ্কর বা বিনোদবিহারীর কাজে কতটা প্রভাব ফেলেছিল। ওঁরা যে এখানে আসতেন, আউটডোর করতেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। লালবাঁধের এই দৃশ্য দেখলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে নন্দলাল বা রামকিঙ্ককরের ছবি। নব’র ক্যামেরার শাটার তো ওঠানামা করে যাচ্ছেই আমিও আমার মোবাইল ক্যামেরায় ছবি আর ভিডিও তুলে রাখছি। গ্রাউন্ড লেভেলে জমির ছবি, নানা রকম টেক্সচারের ছবি আমার দরকার বলে প্রচুর ভিডিও করলাম, স্টীল ইমেজও নিতে থাকলাম। লালবাঁধ হচ্ছে শ্যামবাটীর পিছনে। শ্যামবাটীর রাস্তা থেকে জলাশয় অবধি একটা বিরাট লালমাটি নুড়ি কাঁকরের প্রান্তর, এখানে শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের করা অনেকগুলো আকর্ষণীয় ওপেন এয়ার আর্ট অবজেক্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, এর নাম দেওয়া হয়েছে “লালবাঁধ ইকো-জোন, এনভায়রনমেন্টাল স্কাল্পচার পার্ক ”, ২০১৪-র ৯ আগস্ট এর উদ্বোধন করেছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য শ্রী সুশান্ত দত্তগুপ্ত। এই জায়গাতে আমাদের ছবি ভিডিও তোলাটা   এমন এক পাগলামীতে পৌঁছেছিলো যে একজন সিকিউরিটি গার্ড তো উঁকিঝুঁকি মেরে দেখতে লাগলো এরা করে কি?! আসলে শরীরের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে মাটির দিকে তাক করে আমি ভিডিও রেকর্ডিং করছিলাম, একজায়গায় বোঁ বোঁ করে এমন ঘুরপাক খেতে লাগলাম যে ঐ সিকিউরিটি গার্ডের হয়তো মনে হয়েছে যে আমার শরীর টরীর নিশ্চয়ই খারাপ হয়েছে! প্রকৃতিও যে কাউকে পাগল বানাতে পারে এটা আমি সেদিন অনুভব করলাম! আমার প্রয়োজনীয় শটস নিয়ে আমি খুব খুশী হয়েছি আর নবকুমার যে কত পাখীর ছবি তুলল তার ইয়ত্তা নেই! এইসব করতে করতে আমরা দুপুরের মধ্যে গেস্ট হাউসে ফিরে এলাম।

গেস্ট হাউসে ফিরে স্নান সেরে ব্যাগপত্তর গুছিয়ে নিয়ে গেস্ট হাউস ছেড়ে একেবারে আমরা বেরিয়ে এলাম এবং শুক্তির প্রদর্শনীতে গিয়ে হাজির হলাম, কেননা আগের দিন বেশীক্ষণ থাকা হয় নি, আজকে অনেকক্ষণ থাকার ইচ্ছা। এছাড়া সন্ধ্যা ৬ টার গণপতি এক্সপ্রেসে ফেরার টিকিট রিজার্ভেশান, হাতে ঘন্টা কয়েক সময় পাওয়া যাবে আড্ডা মারার জন্য। প্রদর্শনী হলে ব্যাগ রেখে নব, আমি আর চয়ন কলাভবনের কাছাকাছি মাটির হোটেলে মাছভাত খেয়ে এলাম, চয়নই বিল পেমেন্ট করলো। এদিক ওদিক একটু ঘোরাঘুরি করে শুক্তির জন্য কিছু কিনে নিয়ে হলে এসে দেখি লালা বসে আছে। লালা আমাদের পুরনো বন্ধু। সেই কবে আর্ট কলেজে অ্যাডমিশানের সময় লালার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। তারপর কলেজ পর্ব মিটলে ৮০-র দশকে যে একদল সদ্য পাশ করা আর্টিস্ট শান্তিনিকেতনে এসে ঘাঁটি গাড়ে লালা তাদের মধ্যে একজন। লালারা এখানে থাকতে শুরু করে, ছবি আঁকাও চলতে থাকে, পরে ওরা সোনাঝুরির আশপাশে সাঁওতাল গ্রামের কাছাকাছি জমি কিনে মাটির বাড়ী বানিয়ে থাকতে শুরু করে। সেই বাড়ী আজও আছে। লালার পাকাপোক্ত মাটির বাড়ী এই ২০১৩-তে গিয়ে আমি প্রথম দেখি। শান্তিনিকেতনকে সেন্টার করে লালা বম্বে-কলকাতা- দিল্লীতে যাওয়া আসা করে পেশাদারীত্বের কারণে। মূলতঃ ছবি বিক্রী ও কমিশান ওয়ার্ক করেই লালার সংসার চলে। লালা বিবাহিত, ওর স্ত্রীর নাম মঞ্জুরী। তবে এই দম্পতি কখনো দিল্লী কখনো শান্তিনিকেতনে থাকে। সেই লালার সঙ্গে ২০১৩-র পর আবার দেখা। পুরনো অনেক কথাবার্তা হল। আমাদের আর এক বন্ধু যীশুর কথা উঠল। সে আর বেঁচে নেই। কয়েকমাস হল যীশু আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। লালা ওর সম্পর্কে কিছু বলল। দিল্লীতে থাকাকালীন ওদের যোগাযোগ ছিল। যাইহোক, নন্দন আর্ট গ্যালারীতে শুক্তির প্রদর্শনীর খবর পেয়ে লালা হাজির হয়েছে; আসলে শুক্তি ও চয়ন লালাদেরও পুরনো বন্ধু। আগেরদিন শুক্তির একজিবিশানের উপর অনেক ছবি তুলেছিলাম, আজও কিছু তুললাম। ওরা জানালো প্রদর্শনী উদ্বোধনের দিন ভালো ভীড় হয়েছে, বিশ্বভারতী থেকে অনেকেই এসেছেন, এছাড়া রোজই ফ্লাইং দর্শকদের ভালো ভীড় হয়েছে। পরদিন শুক্তির প্রদর্শনী শেষ হবে। আমরা তো থাকব না। আজই ফিরতে হবে। বিকেল হয়ে আসছে, তাই রেডি হতে শুরু করলাম। নীচের কক্ষে কলাভবন আয়োজিত শিল্পী-ভাস্কর বিকাশ দেবনাথ-এর প্রদর্শনী চলছিল, আমরা একবার দেখে নিলাম। বিদায় নেবার সময় লালা সবাইকে একবার জড়িয়ে ধরল। আমরাও বেরিয়ে পড়লাম। একটা টোটো নিয়ে বোলপুর স্টেশানের দিকে রওনা দিলাম। মনটা স্বভাবতই ভারাক্রান্ত! শরীর ক্লান্ত ছিল, খানিকটা ঝিমোতে ঝিমোতে গণপতি এক্সপ্রেস ধরে হাওড়ায় নামলাম। তারপর যে যার বাড়ী। এর ঠিক একমাস বাদেই আবার হাজির হলাম শান্তিনিকেতনে একটা পারিবারিক ভ্রমণের উদ্দেশ্য যার কথা এই লেখার গোড়াতেই দেওয়া আছে। আর দেওয়া রইলো প্রচুর ছবি, পাঠকের ভাল লাগলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে। আপনাদের জন্য শুভেচ্ছা রইলো। ধন্যবাদ!
ফটোগ্রাফি-  উল্লিখিত ছবিগুলো ছাড়া বাকী সমস্ত ছবি লেখকের তোলা।

বি.দ্রঃ - প্রচুর ছবি আপ্লোড করা আছে। আপনারা দেখতে চাইলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। বাংলাব্লগের ওয়ার্ডপ্রেশ স্লাইডারের মাধ্যমে ছবি দেখতে পাবেন। 

বিষয়ঃ ভ্রমণ

–- নীলোৎপল সিংহ
Posted in ভ্রমণ, সাহিত্য | Tagged , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | মন্তব্য দিন | সম্পাদনা