প্রিয় পাঠক/ব্লগার,
–বাংলাব্লগ টিম
বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
বাই-এর ২য় শিল্প আলোচনা সভায় লিফলেট ও প্রতিবেদন
পাল্টানো সময়ের ইতিবৃত্তান্ত সামাজিক প্রক্রীয়ায় উদ্গত মিথস্ক্রীয়ায়
আক্রান্ত গোঁজামিল দেওয়া সমকালীন শিল্প-ইতিহাস ও তার চর্বিতচর্বণ ভাবনার
বোঝাকে চ্যালেঞ্জ!
বাই-এর ২য় শিল্প আলোচনা সভায় এই লিফলেট-টা স্রোতা-দর্শকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। গতবারের আলোচনা সভার শুরুতে এই লেখাটা পাঠ করা হয়েছিল। পাঠ করেছিলেন অনুষ্ঠানের ঘোষক এবং সঞ্চালক পরাগ রায় (বাই-সদস্য)। লেখাটা সামান্য সংশোধন করে এবারে লিফলেট আকারে বিতরণ করা হয়। সাধারণভাবে কোনও আর্ট গ্রুপের একটা ইস্তাহার থাকে, যেহেতু জন্মের সাথে সাথে বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ কোনো ইস্তাহার বা ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করে নি তাই এইরকম একটা ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে তার অভিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে গোটা শিল্প-পরিমন্ডলের সামনে হাজির করতে চায় সে। আজকের দিনে ইস্তাহার প্রকাশ করাটা একটা বিতর্কিত বিষয় বলে এবং এর কোনও প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সে বিষয়ে বাই-সদস্যরা এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেন নি তাই ইস্তাহারের পরিবর্তে এই ঘোষণাপত্রটা প্রকাশ করা হয়েছে। বাই-এর সেক্রেটারী নবকুমার চক্রবর্তী কর্তৃক বাই-এর পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন পাঠের সময় এই কথাটা উল্লিখিত হয়েছে। নিচে ঘোষণাপত্র এবং ঐ প্রতিবেদনটা আমরা উপস্থিত করলাম। ধন্যবাদ!
–বাংলাব্লগ টিম
প্রিয় বন্ধুরা,
আজকের এই হালকা শীতের সন্ধ্যায় অবনীন্দ্র সভাগৃহে আয়োজিত নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান শুরুর প্রাকমুহূর্তে বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ-এর তরফ থেকে আমরা দু-চারটে কথা বলতে চাই। বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ একটি নবগঠিত শিল্পী-দল। মধ্য পঞ্চাশে দাঁড়িয়ে অর্নির্দিষ্ট, তমসাচ্ছন্ন, উদভ্রান্ত, উন্মার্গগামী, রুচিহীন একটা বিকারগ্রস্ত সংলাপ ও সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রমণ–একাকিত্বে বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত হতে হতে সেল-ফোনীয় তৎপরতায় গোলপার্কের অদূরে বিল্লাদার চায়ের দোকানে দীর্ঘ তিনবছরের আড্ডায় সবাইকে ডেকে এনে যুক্তি তক্কো গপ্পো চা সিগারেটের তুফানে মগ্ন হতে হতে হঠাৎ আকাঙ্খা জেগে ওঠে নিজেদের জন্য কিছু একটা করার। ছবি আঁকা তো চলছিল–নিজের নিজের স্টুডিওর দরজা বন্ধ করে। কিন্তু সে যে বড় একা একা–কে কি করি, কে কি ভাবি–কিছুই জানি না, বুঝি না! বোঝা দরকার জানা দরকার। আমরা বুঝতে চাইছিলাম। তাই জড়ো হওয়া। দল থাকলে দলাদলি থাকে, দলবদল থাকে, আমরা দলাদলিতে নেই কোলাকুলিতেও নেই! সহজ স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দ মনোভাব নিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে বুঝতে চাইছি এই পাল্টানো সময়ের ইতিবৃত্তান্ত সামাজিক প্রক্রীয়ায় উদ্গত মিথস্ক্রীয়ায় আক্রান্ত গোঁজামিল দেওয়া সমকালীন শিল্প-ইতিহাস ও তার চর্বিতচর্বণ ভাবনার বোঝা বহন করতে করতে ক্লান্ত অবসন্ন চিন্তার জগতে নবতর শিল্পভাষা অনুসন্ধানে দরকার নতুন রক্ত সঞ্চালনের–তরুণতর মনস্কতার যোগ্যতমদের দ্বারা পোস্টমর্টেম ও উৎখননকৃত সময়, ইতিহাস ও শিল্পের হাত ধরাধরি করে পথ চলার পাঁচালী। তাই তো প্রদর্শনী, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ব্লগ, ওয়েবসাইট, ম্যাগাজিন, বুলেটিন–যুক্তি তক্কো গপ্পো, বিতর্ক সভার ভাবনা। প্রস্তুতি চলছে। এই অনুষ্ঠানই তার দ্বিতীয় প্রয়াস। লোকবল কম, অর্থবল কম–তবুও প্রাত্যহিকতার ঠ্যালা সামলাতে সামলাতে, সমগ্র শিল্পকলা পরিমণ্ডলের অন্তর্গত কূটকচালী, রাজনীতি, পেশাদারীত্বের রেশারেশি, প্রতিযোগীতা–এ সবে বিব্রত বোধ করি, অথবা এসব সহ্য করতে করতেই নিজেরাই স্ব-উদ্যোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হই। আর সে জন্যই আর্ট ইনিশিয়েটিভ। বেঙ্গল তার স্থানিক পরিচিতি। বাংলা তার ঠিকানা। আমাদের দরজা জানলা খোলাই আছে–লোকালেও আছি গ্লোবালেও আছি–হয়তো গ্লোকাল! আমরা হাত বাড়িয়ে আছি–হাত বাড়ালেই বন্ধুত্বতা! প্রশ্ন থাকলে উত্তর আছে উত্তর থাকলে প্রশ্ন আছে। আপনারা স্বাগত!
বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ-এর সদস্যরা
১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ কলকাতা
![]() |
| দলের পক্ষ থেকে বাই-এর সেক্রেটারী নবকুমার চক্রবর্তীর একটি প্রতিবেদন
পাঠ। ডানদিকে অপর একজন বাই-সদস্য সুমিত চৌধুরী ফটো তোলায় ব্যস্ত। |
দলের পক্ষ থেকে বাই-এর সেক্রেটারী নবকুমার চক্রবর্তীর একটি প্রতিবেদন পাঠ
প্রিয় বন্ধুরা,
উৎস ছিল একটি চায়ের দোকান। প্রতি শনিবারের সান্ধ্যকালীন আড্ডার মৌতাত ও মাতামাতি, গুলতানী, চুলোচুলি, বকবকানী, প্রস্তাব, আবার প্রস্তাব, আলোচনা—এসব পার করতে করতে চার চারটি মজলীশ পেরিয়ে ২০১৪-র ১৫ আগস্টের পঞ্চম মজলীশের এক বৈঠকে বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভ অথবা ‘বাই’-এর জন্ম হয়। আট দশজন উৎসুক আড্ডাবাদী শিল্পীর প্রারম্ভিক প্রচেষ্টায় নবগঠিত বাই শুরু করে তার পথচলা। আড্ডার মধ্য দিয়ে তার জন্ম বলে সেই ধারায় আজও তার অস্তিত্ব টিঁকে আছে। সে এখন অনেকটা সংগঠিত। আটজন পূর্ণসদস্য ও কয়েকজন শুভাকাঙ্খীর অভিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্যের প্রতি মর্যাদা রেখে সে সারা ভারতের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে চায়। বুঝতে চায় সামগ্রিকভাবে বহুমাত্রিক শিল্পকলা পরিমন্ডলের সমকালীনতা, ধরাশায়ী আর্টবাজার ব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাকে, একই সঙ্গে চিনতে চায় বর্তমানের পরীক্ষা নিরীক্ষা নির্ভর নবরূপে রচিত শিল্পকলার আভ্যন্তরীণ কাঠামোটিকে যার মূল সুরটুকুকে মিলিয়ে নিতে চায় নিজের সঙ্গে। বাই জন্মের সাথে সাথে তার কোনও ইস্তাহার প্রকাশ করেনি ঠিকই তবে একটি প্রচারপত্রে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যর প্রাথমিক আভাস দেওয়া আছে। সেই প্রচারপত্রটি আজ আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হল। আপনারা পড়বেন, ভাববেন, প্রশ্ন রাখবেন, নানারকম প্রস্তাব দেবেন–ভবিষ্যতে এটাই আমাদের আশা। আমরা হাত বাড়িয়েই আছি। আসুন সংলাপ বিতর্ক যুক্তি তক্কো গপ্পোর আবহ নির্মাণ করে নতুন যুগের নতুন শিল্পভাষার অনুসন্ধানে আমরা ব্রতী হই। আপনাদেরকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই। ধন্যবাদ।
–বেঙ্গল আর্ট ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা
————————————————————————————————
*বাংলাব্লগের তরফে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছেন আমপাব্লিক ব্লগারু।
Posted in আলোচনা, শিল্প, সংবাদ
মন্তব্য দিন


No comments :
Post a Comment